Monday, March 7, 2016

আদিশূর বৈদ্যজাতি

কুলাচার্য্যঠাকুর কৃত কুলজি গ্রন্থে আদিশূরের ক্ষত্রিয় জাতি নির্দেশ আছে, কিন্তু অন্যান্য কুলজিগ্রন্থে, আদিশূর বৈদ্যজাতি, স্পষ্টাক্ষরে উল্লেখ প্রাপ্ত হওয়া যায় । এবম্বিধ মতভেদের কারণ আমরা অনুমান দ্বারা যতদূর স্থির করিতে পারিয়াছি, তাহাতে বোধ হয় যে, লিপিকারকের ভ্রম বশতঃ রাজেন্দ্রবাবুর কথিত কুলপঞ্জিকাতে, পাঠের কোন প্রকার পরিবর্তন হইয়া থাকিবে।
এতদ্দেশে মুদ্রাযন্ত্র প্রচলিত হওয়ার পূৰ্ব্বে সকলকেই পুস্তকাদি স্বহস্তে লিথিয়া লইতে হইত। যাহারা বিদ্বান এবং ভাষাজ্ঞ তাহারাই গ্রন্থাদির অবিকল, এবং যথাযথ প্রতিলিপি করিতে পারিতেন । কিন্তু যাহার তদ্বিষয়ে নুনি, তাহাদিগের লিখিত পুস্তকের অধিকাংশ স্থলে, মূল পুস্তকের পাঠ পরিবর্ত্তন এবং ভাবান্তর হইয়া যাইত । বিশেষতঃ কুলজিগ্রন্থের আলোচনা এবং প্রয়োজন একমাত্র ঘটক সম্প্রদায়ের হস্তে ন্যস্ত ছিল । ব্যবসায় চালাইবার অনুরোধে, অনেকেই ব্যাকরণ ও সাহিত্য শিক্ষার অবসর প্রাপ্ত হইতেন না ; এবং অল্প কিঞ্চিৎ শিক্ষা করিয়া ব্যবসায় আরম্ভ করিতেন, ও কুলজি হইতে কতিপয় শ্লোক কণ্ঠস্থ করিয়া, জনসমাজে ঘটকচূড়ামণি বলিয়া প্রসিদ্ধ হইতেন। এই সকল ঘটকচূড়ামণিরাই কুলজি গ্রন্থের পাঠ পরিবর্তন করিয়া নানা প্রকার গণ্ডগোল করিয়াছেন ।
----আদিশূর ও বল্লাল সেন
------পার্ব্বতীশঙ্কর রায়চৌধুরী

No comments:

Post a Comment