Saturday, March 26, 2016

আদিশূর ও বল্লাল সেন

বিজ্ঞাপন

 
গত ১৮৬৫ খৃষ্টাব্দের এসিয়াটিক জারনেলে ১ম অংশের ৩য় খণ্ডে ডাক্তার রাজেন্দ্র লাল মিত্র বাহাদুর ‘বঙ্গীয় সেনরাজা’ শিরোনামে একটা প্রবন্ধ মুদ্রিত করেন । তাহাতে সেনবংশীয়ের ক্ষত্রিয় ছিলেন প্রতিপন্ন করিয়াছেন। এই মতের কতকগুলি বিরোধী প্রমাণ বিদ্যমান আছে, আমি তৎসমুদয় সংগ্ৰহ করিয়া সেন রাজাদিগের ইতিহাস, সহিত এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধ প্রকাশ করিলাম। যে তত্ত্ব ইতিহাস সীমার অতীত, তাহার আবিষ্করণ অতিশয় দূরুহ ব্যাপার। আমার এই প্রবন্ধে হয়ত কোন কোন বিষয়ে প্রমাদ লক্ষিত হইতে পারে, সহৃদয় পাঠকবর্গ তৎসমুদয় প্রদর্শন করিলে উপকৃত হইব। অপিচ পাঠকবর্গের কৌতুহল নিবারণ জন্য এই পুস্তকের পরিশিষ্টে দুষ্প্রাপ্য তাম্রশাসনাদির অবিকল অমুলিপি প্রদান করিলাম। পাঠকবর্গ এই পুস্তক, খানি আদ্যোপাস্ত পাঠ করিলেই পরিশ্রম সফল বিবেচনা করিব।

পরিশেষে কৃতজ্ঞতার সহিত প্রকাশ করিতেছি যে ত্রযুক্ত অভয়াননা কবিরত্ন মহাশয় অনুগ্রহ করিয়া হরিবংশ এবং ভাগবত হইতে প্রমাণ সংগ্ৰহ করিয়া দিয়াছেন । এবং এই পুস্তকমুদ্রাঙ্কণ সময়ে যাহারা আমাকে বিশেষ সাহায্য করিয়াছেন, তাহাদিগকে সকৃতজ্ঞচিত্তে ধন্যবাদ প্রদান করিতেছি ।

ষাটীঘর,
বৈশাখ ১২৮৪ ।

শ্ৰীপাৰ্ব্বতীশঙ্কর রায়চৌধুরী


প্রথম অধ্যায়

মুল প্রবন্ধ: On the Sena Rajas of Bengal, ডাউনলোড।
 

Monday, March 7, 2016

কোন কোন ক্ষত্রিয় যোগবলে ব্রাহ্মণত্ব প্রাপ্ত হইয়াছিলেন

চন্দ্র ও সূৰ্য্যবংশে, ব্রাহ্মণ ক্ষত্ৰিয় বৈশ্য ও শূন্দ্র, চারি বর্ণেরই উৎপত্তি পুরাণাদিতে বর্ণিত আছে। এক ব্যক্তির পুত্ৰগণ মধ্যে কেহ ব্রাহ্মণ, কেহ ক্ষত্রিয়, কেহ বৈশ্য, কেহবা শূদ্র হইয়াছেন। কোন কোন ক্ষত্রিয় যোগবলে ব্রাহ্মণত্ব প্রাপ্ত হইয়াছিলেন । অতএব চন্দ্রবংশীয় অথবা সূৰ্য্যবংশীয় মাত্র নির্দেশ করিলে, জাতির নির্দেশ হইতে পারে না
----আদিশূর ও বল্লাল সেন
------পার্ব্বতীশঙ্কর রায়চৌধুরী

আদিশূর বৈদ্যজাতি

কুলাচার্য্যঠাকুর কৃত কুলজি গ্রন্থে আদিশূরের ক্ষত্রিয় জাতি নির্দেশ আছে, কিন্তু অন্যান্য কুলজিগ্রন্থে, আদিশূর বৈদ্যজাতি, স্পষ্টাক্ষরে উল্লেখ প্রাপ্ত হওয়া যায় । এবম্বিধ মতভেদের কারণ আমরা অনুমান দ্বারা যতদূর স্থির করিতে পারিয়াছি, তাহাতে বোধ হয় যে, লিপিকারকের ভ্রম বশতঃ রাজেন্দ্রবাবুর কথিত কুলপঞ্জিকাতে, পাঠের কোন প্রকার পরিবর্তন হইয়া থাকিবে।
এতদ্দেশে মুদ্রাযন্ত্র প্রচলিত হওয়ার পূৰ্ব্বে সকলকেই পুস্তকাদি স্বহস্তে লিথিয়া লইতে হইত। যাহারা বিদ্বান এবং ভাষাজ্ঞ তাহারাই গ্রন্থাদির অবিকল, এবং যথাযথ প্রতিলিপি করিতে পারিতেন । কিন্তু যাহার তদ্বিষয়ে নুনি, তাহাদিগের লিখিত পুস্তকের অধিকাংশ স্থলে, মূল পুস্তকের পাঠ পরিবর্ত্তন এবং ভাবান্তর হইয়া যাইত । বিশেষতঃ কুলজিগ্রন্থের আলোচনা এবং প্রয়োজন একমাত্র ঘটক সম্প্রদায়ের হস্তে ন্যস্ত ছিল । ব্যবসায় চালাইবার অনুরোধে, অনেকেই ব্যাকরণ ও সাহিত্য শিক্ষার অবসর প্রাপ্ত হইতেন না ; এবং অল্প কিঞ্চিৎ শিক্ষা করিয়া ব্যবসায় আরম্ভ করিতেন, ও কুলজি হইতে কতিপয় শ্লোক কণ্ঠস্থ করিয়া, জনসমাজে ঘটকচূড়ামণি বলিয়া প্রসিদ্ধ হইতেন। এই সকল ঘটকচূড়ামণিরাই কুলজি গ্রন্থের পাঠ পরিবর্তন করিয়া নানা প্রকার গণ্ডগোল করিয়াছেন ।
----আদিশূর ও বল্লাল সেন
------পার্ব্বতীশঙ্কর রায়চৌধুরী

Saturday, March 5, 2016

এতদেশীয় কবিগণ

বিশেষতঃ মহাবল পরাক্রান্ত রাজাদিগের প্রসাদ-লালসায় এতদেশীয় কবিগণ নানাপ্রকার অত্যুক্তি করিয়া তাহাদিগের সামান্য যুদ্ধকার্যাকে দিগ্বিজয়, যৎসামান্য ইষ্টকালয়কে ইন্দ্রের অমরাপুরী, এবং তাহাদিগের সাধারণ কাৰ্য্য অসাধারণ অবদান বলিয়া বর্ণনা করিতেন ।
----আদিশূর ও বল্লাল সেন
------পার্ব্বতীশঙ্কর রায়চৌধুরী

ভারত-সভ্যতার ‍সূচনা

প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার, ইত্যাদির ফলে এখন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে মানবসমাজের একেবারে আদিতম কাল থেকেই ভারতে জনবসতি বর্তমান ছিল। বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতাগুলির একটির উৎপত্তি ঘটে ভারতে। এখানেই গড়ে ওঠে অত্যন্ত উচুস্তরের উন্নত এক সংস্কৃতি যা এই দেশের পরবতী বিকাশের ক্ষেত্রে এবং সমগ্রভাবে গোটা প্রাচ্যের, মধ্য ও দক্ষিণ-পবে এশিয়ার ও দরে প্রাচ্যের বহ জাতির সংস্কৃতির অগ্রগতিতে বিপলে প্রভাব বিস্তার করে।
----ভারতবর্ষের ইতিহাস, প্রস্তরযুগে ভারত
------কো.আন্তোনভা, গ্রি. বোনগার্দ-রেভিন, গ্রি. কতোভস্কি

ভারতীয় ইতিহাসের কালপঞ্জী

মুসলমানদের ভারত বিজয়
(১) খোরাসানে মুসলমান রাজবংশাবলী
(২) গজনীর মামুদ ও তাঁর ভারত আক্রমণ; তাঁর বংশধরগণ, ৯৯৯ – ১১৫২, [বংশ] ১১৮৬ [পর্যন্ত]
(৩) সাবক্তেগিন রাজবংশের পতনের পর গজনীতে ঘুর বংশের প্রতিষ্ঠা, ১১৫২-১২০৬
(৪) দিল্লীর দাস (মামেলুক) রাজারা, ১২০৬ – ১২৮৮
(৫) খিলজি বংশ, ১২৮৮ – ১৩২১
(৬) তুঘলক বংশ, ১৩২১ – ১৪১৪
(৭) সয়দদের শাসন, ১৪১৪ – ১৪৫o
(৮) লোদী বংশ, ১৪৫o – ১৫২৬ [রবার্ট সিউয়েলের পুস্তক থেকে উদ্ধতি ]
বাবরের আগমনকালে ভারতের নানা রাজ্য